বিদেশে বাংলাদেশিদের রাজনীতি করার কুফল আরো একবার দেখলাম: জিল্লুর রহমান

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক :  টিভি উপস্থাপক ও সাংবাদিক জিল্লুর রহমান বলেছেন, বিদেশে বাংলাদেশিদের রাজনীতি করার যে কুফল, সেটা আমরা আরো একবার দেখলাম। দেখলাম এনসিপি নেতা আখতার হোসেনকে উদ্দেশ্য করে ডিম ছুড়ার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে, দেখলাম ডা. তাসনিম জারার উদ্দেশ্যে অশ্লীল বাক্য নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন এটা এলাও করে এবং এলাও করে বলেই বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ অনুমতি নিয়ে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস যেই হোটেলে থাকছেন, তার সামনে তাদেরকে কর্মসূচি পালন করবার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু এই যে একজন সরকার প্রধান গেলে এবং তিনি যখন দেশের ভেতরে তার জনপ্রিয়তা থাকে না বা তার যারা প্রতিপক্ষ থাকে, তারা যখন বিদেশে গেলে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন এবং সেটা যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন সেটা দেখতে খুব সুখকর মনে হয় না এবং প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান বা প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক পরিচয় যে সম্মান সেটা যখন রাজনীতির সঙ্গে মিলে মিশে যায় এবং তিনিও যখন মিলিয়ে ফেলেন বা সরকারও যখন মিলিয়ে ফেলে এবং সেটার যখন একটা প্রতিক্রিয়া দেশের বাইরে দেখতে পাওয়া যায় এবং যখন গোটা পৃথিবীর দৃষ্টি নিউইয়র্কের দিকে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের দিকে, তখন সেটা বাংলাদেশের সম্মান বাড়ায় না।

 

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এসব কথা বলেন তিনি।

 

জিল্লুর রহমান বলেন, কেন নিয়ে গেছেন এই ছয় জন রাজনৈতিক নেতাকে? প্রথমে চারজনের নাম ঘোষণা করে পরে দুজনকে যুক্ত করে, তার মধ্যে অত্যন্ত হাই প্রোফাইল এবং লো প্রোফাইলের নেতাদের সংযুক্ত করে। তাতে কার কি অনুভূতি, এনসিপির কী অনুভূতি, জামায়াতের কী অনুভূতি, বা বিএনপির কী অনুভূতি- আমি জানি না বা তাদের দলীয় নেতৃত্বের কী অনুভূতি আমার কাছে এটা একটু বেখাপ্পাই ঠেকেছে। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে যে সেখানে গিয়ে কি হবে? ষড়যন্ত্র হবে, না কি সিট ভাগাভাগি হবে, কি হবে- সেগুলো রাজনীতির জন্য ইতিবাচক কিছু নয় এবং আমি বহুবার বলেছি যে বিদেশের মাটিতে আসলে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে এত কিছুই করবার কিছু নেই।

 

তাতে দেশের কোন অর্জন আমি দেখি না। এখন পর্যন্ত দেখিনি। সেখানে করবার সুযোগ আছে, মধ্যপ্রাচ্যের মত এমনটা হয় না যে শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ইউএইতে এবং সেখান পরে অবশ্য তাদেরকে মুক্তিও দিয়েছে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের অভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতিতে। কিন্তু সব দেশে পরিস্থিতিটা এরকম নয় এবং সেটা তারা করতে পারে।

 

তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন হচ্ছে আখতার হোসেনকে নিয়ে যাওয়া, তাসনিম জারাকে নিয়ে যাওয়া এবং তাদের যদি মর্যাদা সরকার রক্ষা করতে না পারে, কেন তাদেরকে নিয়ে যাওয়া? স্বাভাবিকভাবে প্রোটোকল এবং সার্বিক বিবেচনায় প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন। আমরা সঠিক জানি না, কিন্তু যেটুকু আমরা দেখেছি খবরাখবরে বা নানান ভিডিওতে উপদেষ্টারা হয়ত সেই পথে বেরিয়ে গেছেন। কিন্তু আমরা দেখলাম যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং তাসনিম জারা আর আখতার হোসেনকে যেভাবে পেরিয়ে যেতে এবং তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বিশেষ করে তাসনিম জারা এবং আখতার হোসেনকে যেভাবে অসম্মান করবার চেষ্টা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিউইয়র্কে দেখলাম, আমার মনে হয় এই জায়গায় এই অসম্মানের দায় কিছুটা সরকারকেও নিতে হবে। কারণ এটা বুঝতে না পারার কথা নয়। কেননা এই বিক্ষোভ গত দু-তিন দিন ধরেই সেখানে হচ্ছে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» মতবিরোধের নামে কারো আচরণ মাত্রা ছাড়ালে বুঝতে হবে অন্য উদ্দেশ্য আছে: তথ্যমন্ত্রী

» সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন শফিকুর রহমান

» সরকার তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু করেছে: প্রতিমন্ত্রী নুর

» সংবিধান সংস্কার নিয়ে সংসদেই সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়া হবে: নাহিদ ইসলাম

» প্রশ্নফাঁস ও নকল রোধে মাঠ পর্যায়ে কঠোর তদারকি করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী

» যাত্রাবাড়ী থেকে ইয়াবাসহ ২ রোহিঙ্গা গ্রেফতার

» প্রবীণ সাংবাদিকদের পেনশনের ব্যবস্থা করা হবে: কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি

» বগুড়ার উন্নয়নে শুধু ঘোষণা হয়েছে, কিছু বাস্তবায়ন হয়নি: রুমন

» নোয়াব সভাপতি হলেন মতিউর রহমান চৌধুরী

» ঈদযাত্রায় অনিয়ম পেলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা: সড়কপরিবহন মন্ত্রী

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

বিদেশে বাংলাদেশিদের রাজনীতি করার কুফল আরো একবার দেখলাম: জিল্লুর রহমান

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক :  টিভি উপস্থাপক ও সাংবাদিক জিল্লুর রহমান বলেছেন, বিদেশে বাংলাদেশিদের রাজনীতি করার যে কুফল, সেটা আমরা আরো একবার দেখলাম। দেখলাম এনসিপি নেতা আখতার হোসেনকে উদ্দেশ্য করে ডিম ছুড়ার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে, দেখলাম ডা. তাসনিম জারার উদ্দেশ্যে অশ্লীল বাক্য নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন এটা এলাও করে এবং এলাও করে বলেই বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ অনুমতি নিয়ে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস যেই হোটেলে থাকছেন, তার সামনে তাদেরকে কর্মসূচি পালন করবার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু এই যে একজন সরকার প্রধান গেলে এবং তিনি যখন দেশের ভেতরে তার জনপ্রিয়তা থাকে না বা তার যারা প্রতিপক্ষ থাকে, তারা যখন বিদেশে গেলে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন এবং সেটা যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন সেটা দেখতে খুব সুখকর মনে হয় না এবং প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান বা প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক পরিচয় যে সম্মান সেটা যখন রাজনীতির সঙ্গে মিলে মিশে যায় এবং তিনিও যখন মিলিয়ে ফেলেন বা সরকারও যখন মিলিয়ে ফেলে এবং সেটার যখন একটা প্রতিক্রিয়া দেশের বাইরে দেখতে পাওয়া যায় এবং যখন গোটা পৃথিবীর দৃষ্টি নিউইয়র্কের দিকে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের দিকে, তখন সেটা বাংলাদেশের সম্মান বাড়ায় না।

 

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এসব কথা বলেন তিনি।

 

জিল্লুর রহমান বলেন, কেন নিয়ে গেছেন এই ছয় জন রাজনৈতিক নেতাকে? প্রথমে চারজনের নাম ঘোষণা করে পরে দুজনকে যুক্ত করে, তার মধ্যে অত্যন্ত হাই প্রোফাইল এবং লো প্রোফাইলের নেতাদের সংযুক্ত করে। তাতে কার কি অনুভূতি, এনসিপির কী অনুভূতি, জামায়াতের কী অনুভূতি, বা বিএনপির কী অনুভূতি- আমি জানি না বা তাদের দলীয় নেতৃত্বের কী অনুভূতি আমার কাছে এটা একটু বেখাপ্পাই ঠেকেছে। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে যে সেখানে গিয়ে কি হবে? ষড়যন্ত্র হবে, না কি সিট ভাগাভাগি হবে, কি হবে- সেগুলো রাজনীতির জন্য ইতিবাচক কিছু নয় এবং আমি বহুবার বলেছি যে বিদেশের মাটিতে আসলে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে এত কিছুই করবার কিছু নেই।

 

তাতে দেশের কোন অর্জন আমি দেখি না। এখন পর্যন্ত দেখিনি। সেখানে করবার সুযোগ আছে, মধ্যপ্রাচ্যের মত এমনটা হয় না যে শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ইউএইতে এবং সেখান পরে অবশ্য তাদেরকে মুক্তিও দিয়েছে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের অভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতিতে। কিন্তু সব দেশে পরিস্থিতিটা এরকম নয় এবং সেটা তারা করতে পারে।

 

তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন হচ্ছে আখতার হোসেনকে নিয়ে যাওয়া, তাসনিম জারাকে নিয়ে যাওয়া এবং তাদের যদি মর্যাদা সরকার রক্ষা করতে না পারে, কেন তাদেরকে নিয়ে যাওয়া? স্বাভাবিকভাবে প্রোটোকল এবং সার্বিক বিবেচনায় প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন। আমরা সঠিক জানি না, কিন্তু যেটুকু আমরা দেখেছি খবরাখবরে বা নানান ভিডিওতে উপদেষ্টারা হয়ত সেই পথে বেরিয়ে গেছেন। কিন্তু আমরা দেখলাম যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং তাসনিম জারা আর আখতার হোসেনকে যেভাবে পেরিয়ে যেতে এবং তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বিশেষ করে তাসনিম জারা এবং আখতার হোসেনকে যেভাবে অসম্মান করবার চেষ্টা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিউইয়র্কে দেখলাম, আমার মনে হয় এই জায়গায় এই অসম্মানের দায় কিছুটা সরকারকেও নিতে হবে। কারণ এটা বুঝতে না পারার কথা নয়। কেননা এই বিক্ষোভ গত দু-তিন দিন ধরেই সেখানে হচ্ছে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com